4 weeks ago
হে মু‌মিনগণ! তোমা‌দের ওপর রোজা ফরজ করা হ‌য়ে‌ছে, যেম‌নিভা‌বে ফরজ করা হ‌য়ে‌ছিল তোমা‌দের পূর্বব‌র্তি‌দের ওপর। যা‌তে তোমরা তাকওয়া অর্জন কর‌তে পা‌রো। [সূরা বাকারা-১৮৩]
4 weeks ago
কুরআন নাযিলের মাসে কুরআন তিলাওয়াতের পাশাপাশি সমাজে কুরআন-সুন্নাহর আইন ও আদর্শ প্রতিষ্ঠার শপথ নিন- ইশা ছাত্র আন্দোলন
4 weeks ago
এই রমযান মাসেই মানুষের জন্য হেদায়েত এবং সত্যান্বেষীদের জন্য সুস্পষ্ট পথনির্দেশ নিয়ে কুরআন নাজিল হয়েছে; যা হক ও বাতিলের মাঝে পার্থক্যকারী। [সুরা বাকারা: ১৮৫]
4 weeks ago
সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় নীতির পরিবর্তন চাই- ইশা ছাত্র আন্দোলন
1 month ago
বাজেট হতে হবে শিক্ষা ও উদ্যোক্তাবান্ধব এবং কর্মসংস্থানে থাকতে হবে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা- এম হাছিবুল ইসলাম, সেক্রেটারি জেনারেল, ইশা ছাত্র আন্দোলন

hadith

একজন জাহেল দাতা একজন বখিল আবেদের তুলনায় আল্লাহর কাছে অধিকতর প্রিয়

সরল অনুবাদ
হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন- রাসূল (সা.) বলেছেন, “দানকারী আল্লাহর নিকটতম, বেহেশতের নিকটতম এবং মানুষেরও নিকটতম। আর দূরে থাকে দোযখ থেকে। পক্ষান্তরে কৃপণ ব্যক্তি অবস্থান করে আল্লাহ থেকে দূরে, বেহেশত থেকে দূরে, মানুষ থেকে দূরে, দোযখের নিকটে। অবশ্যই একজন জাহেল দাতা একজন বখিল আবেদের তুলনায় আল্লাহর কাছে অধিকতর প্রিয়।” -তিরমিযী

রাবি পরিচিতি
আলোচ্য হাদিসখানা রঈসুল হাদিস হযরত আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত। তার নাম সম্পর্কে প্রায় ৩৫টি অভিমত পাওয়া যায়। তন্মধ্যে বিশুদ্ধতম অভিমত হচ্ছে, ইসলাম গ্রহণের পূর্বে তার নাম ছিল- আবদুশ শামছ, আবদু আমর, আবদুল ওয়াযযা ইত্যাদি। ইসলাম গ্রহণের পর তার নাম রাখা হয়, আবদুল্লাহ ইবনে সাখর, আবদুর রহমান ইবনে সাখর, ওমায়ের ইবনে আমর।

উপনাম
আবু হুরায়রা। পিতার নাম : সাখর। মাতার নাম : উম্মিয়া বিনতে সাফীহা অথবা মাইমুনা।
আবু হুরায়রা নামে প্রসিদ্ধি লাভের কারণ, রাসূল (সা.) কর্তৃক রসিকতার সাথে (হে বিড়ালের পিতা) আবু হুরায়রা নামে ডাকা।

ইসলাম গ্রহণ
হযরত আবু হুরায়রা (রা.) ৭ম হিজরিতে খায়বার যুদ্ধের পূর্বে ইসলাম গ্রহণ করেন। তিনি প্রখ্যাত সাহাবি তুফায়েল বিন আমর আদ-দাওসীর হাতে ইসলামে দীক্ষিত হন।
রাসূল (রা.) এর সাহচর্য ও হাদিস শাস্ত্রে অবদান
তিনি ইসলাম গ্রহণের পর ইলম অর্জনের তীব্র আকাঙ্ক্ষ নিয়ে রাসূল (সা.) এর সাহচার্যে আসেন। রাসূল (সা.) যখন যে দিকে যেতেন তিনিও সেদিকে যেতেন। এভাবে সার্বক্ষণিক সাহচর্য লাভ ও খেদমতের মাধ্যমে তিনি অধিক হাদিস চর্চার সৌভাগ্য লাভ করেন। হাদিস বর্ণনার প্রাথমিক পর্যায়ে তিনি তার স্মৃতিতে সব কিছু ধরে রাখতে পারতেন না। রাসূল (সা.)-কে এ কথা বলার পর তিনি তাকে চাদর বিছাতে বললেন। অতঃপর তাতে দোয়া করলেন। ফলে তিনি এমন তীক্ষ্ণ মেধা ও স্মৃতিশক্তির অধিকারী হলেন যে, তিনি যা শুনতেন তা আর কোনদিন ভুলতেন না।

হাদিসের প্রচার ও প্রসারে তার অবদান অনস্বীকার্য। তিনি সর্বাধিক সংখ্যক হাদিস বর্ণনা করেছেন। তার বর্ণিত হাদিস সংখ্য ৫৩৭৪টি। তন্মধ্যে বুখারি ও মুসলিম শরীফে ৮২২টি ও এককভাবে বুখারিতে ৪০৪টি এবং মুসলিম শরীফে ৪১৮টি হাদিস স্থান পেয়েছে। হাদিসের এই মহান খাদিম ৭৮ বছর বয়সে মদিনার অদূরে কাসবা নামক স্থানে ইন্তিকাল করেন।

গ্রন্থ পরিচিতি
এ গ্রন্থের প্রণেতা হলেন মুহাম্মাদ ইবনে ঈসা। পূর্ণ নাম আলইমামুল হাফেজ আবু ঈসা মুহাম্মাদ ইবনে ঈসা ইবনে সাওরাতা ইবনে মুসাআত-তিরমিযী। তিনি জীহুন নদীর তীরে তিরমীয নামক প্রাচীন শহরে ২০৯ হিজরী সনে জন্মগ্রহণ করেন। বাল্যকালে তিনি কুরআন হিফয্ করেন। ছোট অবস্থায়-ই তিনি হাদীস শিক্ষা ও সংগ্রহের জন্য মুসলিম জাহানের বিখ্যাত হাদীসের কেন্দ্রসমূহ, বিশেষকরে কুফা, বসরা, খুরাসান, ইরাক ও হিজাজের বড় বড় মুহাদ্দিসগণের কাছ থেকে হাদীস শ্রবণ ও সংগ্রহ করেন।

ইমাম তিরমিযী তীক্ষ্ণ স্মরণ শক্তির অধিকারী ছিলেন। একবার শোনার পর তিনি বহুসংখ্যক হাদীস মুখস্ত করতে সমর্থ হতেন। তিনি ইমাম বুখারির স্নেহভাজন ছাত্র ছিলেন। হাদিস প্রণয়নে তিনি ভাষার পাণ্ডিত্য সংকলনের কলাকৌশল, মাসয়ালা-মাসায়েলের বিন্যাসে এক অভিনব পদ্ধতি প্রয়োগ করেন। যাকে মুহাদ্দিসীনদের পরিভাষায় জামে বলে। হাদীসের এই মহান খাদিম তিরমিয শহরে ২৭৯ হিজরীসনে ৭০ বৎসর বয়সে ইন্তিকাল করেন।
(চলবে)

লেখক-
সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি